AdvertisementAdvertisement

প্রস্তাবিত বাজেটে কৌশলগত দিকনির্দেশনার অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সংশয়

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগসহ বেশ কিছু জনবান্ধব ও বাণিজ্যিক সহায়ক প্রস্তাবনা থাকলেও, সামগ্রিক কৌশলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট শূন্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক সুবিধা প্রদানের মতো খুচরা পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত রূপরেখার অভাব স্পষ্ট। বাজেটে আন্তরিকতার ছাপ থাকলেও কৌশলগত ধারের অনুপস্থিতি অর্থনীতির গতিশীলতা নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের ধরনে গতানুগতিক অবকাঠামো-নির্ভর চিন্তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মানসম্মত শিক্ষার অভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা উত্তরণের কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই। একই অবস্থা স্বাস্থ্য খাতেও; যেখানে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সাব-সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি ছিল। সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে গুণগত মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৪২ লাখ কৃষকের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা প্রশংসার দাবি রাখে। এটি গ্রামীণ মূলধন প্রবাহ রক্ষায় সহায়ক হতে পারে, তবে জিডিপির তুলনায় কৃষি খাতের বরাদ্দ শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসা উদ্বেগজনক। এছাড়া ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি ইতিবাচক হলেও, এর সুফল প্রান্তিক কারিগর ও গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও অবকাঠামোর অভাব এখনো প্রকট।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কোনো পদক্ষেপের অভাব ব্যবসায়িক পরিবেশে অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অন্যদিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রতিফলন বাজেটের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যবসার পরিবেশের যে গভীর আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে, তা নীতিমালায় যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বাজেটে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ থাকলেও তা খণ্ডিত প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ। বিশদ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ব্যয় দক্ষতার নিশ্চিতকরণ ছাড়া কেবল বাজেটের আকার বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা দুষ্কর হবে। প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আমূল সংস্কারই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

0%
0%
0%
0%