বৈশ্বিক ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখেও বাংলাদেশের সিইওদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তারা বা সিইওরা এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। প্রাইসওয়াটারহাউস কুপার্স বা পিডব্লিউসি-এর সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে যে, মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে দেশের ব্যবসায়িক খাতের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা। এমন প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের আয় ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিইওদের একটি বড় অংশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক সিইও আগামী তিন বছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সিইওরা নতুন খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছেন। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭৩.৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন শিল্পে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করেছে। তবে এই সম্প্রসারণ থেকে অর্জিত আয়ের চিত্রটি এখনো সন্তোষজনক নয়; নতুন খাতে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র ১৫ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের মোট আয়ের ২০ শতাংশের বেশি এসব নতুন উৎস থেকে আসছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বাংলাদেশের করপোরেট জগতে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০.৫ শতাংশ সিইও জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৫.৬ শতাংশ মনে করেন এটি খরচ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে কৌশলগত পরিকল্পনা ও চাহিদা পূরণে এআইয়ের প্রয়োগে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মানের কাছাকাছি থাকলেও, তথ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজন সিইও-ও দাবি করতে পারেননি যে, তাঁদের এআই টুলসমূহ প্রতিষ্ঠানের সব প্রাসঙ্গিক ডেটার সঙ্গে সম্পূর্ণ একীভূত।
দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সিইওরা এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ৪৬.৭ শতাংশ সিইও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানকে টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা হয়তো পিছিয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে ৪২.২ শতাংশ সিইও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাঠামো দ্রুত পরিবর্তন করতে না পারার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোতে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো রক্ষণশীল। মাত্র ১১ শতাংশ সিইও উচ্চমাত্রার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় কম। পিডব্লিউসির এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করছে যে, করপোরেট নেতৃত্বকে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে এআই ও উদ্ভাবনকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ হিসেবে না দেখে, ব্যবসায়িক কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সুসংহত করার কোনো বিকল্প নেই।
