AdvertisementAdvertisement

১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স

বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজার অভিষেকের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। আগামী ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে রেকর্ড ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজার মূল্যায়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই ঐতিহাসিক আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাজার মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা ইলন মাস্কের নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ছাড়িয়ে যাবে।

স্পেসএক্সের এই অভাবনীয় মূল্যায়ন ২০১৯ সালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর ঐতিহাসিক শেয়ার বাজার অভিষেককে ছাড়িয়ে যাবে, যা সে সময় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ২৬ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। নতুন এই পরিক্রমায় স্পেসএক্সে প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার বা ট্রিলিয়নপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন। সাধারণত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিগুলো একটি খসড়া মূল্যসীমা ঘোষণা করলেও, স্পেসএক্স বিনিয়োগকারীদের প্রচারণার আগেই নির্দিষ্ট দর নির্ধারণ করে বাজার বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অনলাইন ট্রেডিং ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইপ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, বিনিয়োগকারীদের রোডশোর আগেই স্পেসএক্সের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত চমকপ্রদ। তাঁর মতে, এটি চুক্তির শর্তাবলীর ওপর মাস্কের একক নিয়ন্ত্রণ এবং শেয়ারের চাহিদা নিয়ে তাঁর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মহাকাশযান ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির পাশাপাশি স্টারলিংক ও এক্সএআই বিভাগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা দিয়ে থাকে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মঙ্গল গ্রহে স্বনির্ভর শহর গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন থাকলেও স্পেসএক্স এখনো লাভের মুখ দেখেনি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান গুনেছে এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই লোকসান হয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপিও বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জে আর রিটার আল জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরামকোর বিপুল মুনাফার ট্র্যাক রেকর্ড থাকলেও স্পেসএক্সের বার্ষিক রাজস্ব ২০ বিলিয়ন ডলারের কম এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনো অলাভজনক। ফলে আরামকোর মূল্যায়ন যেখানে ছিল বাস্তব মুনাফার ওপর ভিত্তি করে, সেখানে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দাঁড়িয়ে আছে কেবল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর।

অধ্যাপক রিটারের আশঙ্কা, কোম্পানিটির অর্জিত নগদ অর্থ লোকসান দিয়ে মঙ্গল গ্রহে লাখ লাখ মানুষ পাঠানোর পেছনে ব্যয় হতে পারে। তা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে স্পেসএক্সকে নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক হাওয়া বইছে এবং বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের প্রথম দিন শেষে এর বাজার মূল্য ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিচ্ছেন। বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইপের মতে, টেসলাও ২০১০ সালে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুঁজিবাজারে এসে ২০১৩ সালে প্রথম মুনাফার মুখ দেখার পর নাটকীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। স্পেসএক্সের বিনিয়োগকারীরাও এখন একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জুয়া খেলছেন, তবে রকেট, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিস্তৃত খাতের কারণে স্পেসএক্সের বাজার পরিধি টেসলার চেয়েও অনেক বড়।

0%
0%
0%
0%