কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেন যে, নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী চালক ও নারী ব্যবস্থাপনায় ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও পেশাজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দেশের তরুণ প্রজন্ম ও কর্মক্ষম জনশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল পর্যায়ের যোগ্য তরুণ-তরুণী ও শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও শ্রমবাজারের তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে।
শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষাকে আরও সুসংহত করতে সরকার ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন আইন, ২০২৬’ ইতিমধ্যে জারি করেছে। পাশাপাশি, দেশ থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমবাজারের এই সংস্কারমূলক কার্যক্রমগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।