লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পাটগ্রাম থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন লালমনিরহাট জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুব বিভাগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইউনুস আলী, পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি সোহেল রানা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, অভিযুক্তরা জনপ্রতি সাড়ে নয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকা উত্তরার আর এস ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে ওই যুবকদের রাশিয়া পাঠায়।
ভুক্তভোগী যুবকরা হলেন পাটগ্রামের টেপুরগাড়ী এলাকার নাজমুল হক সৌরভ, মেহেদী হাসান, আল আমিন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ৮ মে সকালে মস্কোর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারা পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। এরপরই রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি হোটেলে নিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাদের নিশ্চিত করে যে, চাকরির বদলে তাদের রুশ বাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে পণ্য সরবরাহকারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের কাছে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান ওই যুবকরা। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ইউনুস ও মাহিনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে স্থানীয় জামায়াত। অভিযুক্ত ইউনুস আলী দাবি করেছেন যে, ভুক্তভোগীরা বৈধভাবেই গিয়েছিলেন এবং সেখানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান।
পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ শোয়াইব আহমেদ জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং এর দায়ভার সংগঠনের ওপর বর্তায় না। অন্যদিকে, পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, মানবপাচারের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি তারেক রহমানের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।