মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কবলে পড়ে নদীতীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার।
সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিপাকের তীব্রতায় তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগগুলো সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বসতবাড়ি, সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় এলাকাবাসী তড়িঘড়ি করে গবাদিপশুসহ মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, চোখের সামনেই জিও ব্যাগসহ ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় পানির গভীরতা ৩০ হাতেরও বেশি হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার লক্ষ্যে এলাকাবাসী নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত নতুন করে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা না হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।
লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ভাঙন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে।
মঙ্গলবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন লৌহজং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙনের বিস্তার রোধের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।