লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতগামী ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় জনপদ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই স্থলবন্দরটি ভারত, ভুটান ও নেপাল ভ্রমণের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। ভিসা জটিলতার অবসান ঘটায় বন্দরের ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ৪ আগস্ট থেকে ভিসা প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ থাকায় পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়েছিল। সে সময় কেবল নামমাত্র মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু থাকলেও ভ্রমণপিপাসু সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। যাত্রী সংকটের কারণে বুড়িমারী সীমান্ত এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন কাউন্টারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ২৮ জুন দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থবিরতা কাটার পথ প্রশস্ত হয়। ভিসা চালুর খবর পেয়ে সীমান্তে বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন মালিকরা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের কোলাহলে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে এই সীমান্ত এলাকা।
বুড়িমারী ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভিসা সংকটকালে প্রতিদিনের স্বাভাবিক যাত্রী পারাপার যেখানে তলানিতে ঠেকেছিল, সেখানে এখন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। পূর্বে এই চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় যাত্রী পারাপার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।