নড়াইলের ডুমুরতলা গ্রামের ঈদগাহপাড়ায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মো. আব্দুর রহিম নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতা সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে শালিস বৈঠকে দুই পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনের সময় ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন। আহত আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরতলা গ্রামের বাসিন্দা আশিক মোল্যা ও তার ভাই রাজু মোল্যার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মো. আব্দুর রহিমের শরণাপন্ন হন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা আব্দুর রহিমের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে নড়াইল সদর থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়। তবে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমা দেওয়া এজাহারে অভিযুক্তদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় সেটি ত্রুটিপূর্ণ রয়ে গেছে। এজাহার সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, এজাহারে প্রয়োজনীয় তথ্যের অসংগতি থাকায় মামলার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের অঙ্গীকার থাকলেও, সঠিক আইনি নথিপত্র ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। এজাহারটি যথাযথভাবে সংশোধন করে জমা দেওয়া হলে দ্রুতই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।