সিলেটের সারদা হলে আয়োজিত এক দায়িত্বশীল সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম সরকারের ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে টানাপড়েনময় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এমন বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বাজেটে বিদ্যমান ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও শুভ নয়।
মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, দেশে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ফাহিমা ও রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং সমাজের শান্তি ফেরাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নৃত্য ও সংগীতের মতো বিতর্কিত পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, এ বিষয়ে জনমত উপেক্ষা করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্তে উত্তজনা ও পুশইন বন্ধে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দায়ী। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকারকে অনতিবিলম্বে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে সমাজে সৃষ্ট অস্থিরতা রোধে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আলহাজ নজীর আহমদসহ জেলা ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাফিজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিন ও মুফতি আবু তাহের মিসবাহ। সভায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের চলমান সংকট নিরসনে সচেতন মহলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।