Advertisement

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্য হত্যায় জড়িত দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

রংপুর মহানগরীর মাছোয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২৩ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত শুরু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২২ আগস্ট রাতে স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং ভেতর থেকে দুর্গন্ধ আসায় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তালা ভেঙে বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি ও শোবার ঘর থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেড় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সিদ্ধার্থ দাসকে তার বাবার সহায়তায় এবং মুগ্ধ দাসকে স্থানীয় দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ মোহন্তের ভাষ্যমতে, মুগ্ধ দাস তুঁতবাগান এলাকা হয়ে শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আটকের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের নির্দেশে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এদিকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায় এবং স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%