কিশোরগঞ্জে বরযাত্রীবাহী গাড়ি আটকে নববধূকে অপহরণের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে নববধূর অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী তামান্না আক্তার উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার সঙ্গে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নতুন বউকে নিয়ে ফেরার সময় হাজিপুর এলাকায় একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করে। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল অতর্কিতে গাড়িটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বরযাত্রীদের চোখের সামনে থেকে জোরপূর্বক নববধূকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা।
অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার মূল হোতা আতিকুর রহমান মিয়াদ নামের এক যুবক, যার সঙ্গে তামান্নার পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই আতিকুর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই’ লিখে একটি পোস্ট দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে এবং স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব জানিয়েছেন, আতিকুর মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী হলেও তার এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি দুঃখজনক। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
