Advertisement

হানিট্র্যাপে সাবেক সিএমপি কমিশনার, ব্ল্যাকমেইলে নিয়ন্ত্রিত ছিল ১৬ থানা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজকে হানি ট্র্যাপে ফেলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্ল্যাকমেইল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জুবাইরুল হক জিয়ান নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে সিএমপির দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের হাতে কমিশনারের আপত্তিকর ভিডিও থাকায় দীর্ঘ দেড় বছর সিএমপির ১৬টি থানার পদায়ন ও বদলি কার্যত তাদের ইশারায় পরিচালিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই চক্রের নেপথ্যে সক্রিয় ছিলেন পাহাড়তলী থানার তৎকালীন ওসি বাবুল আজাদ ও পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি জাহেদুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তা জিয়ানের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমিশনারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। এরপর সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন থানায় বদলি ও পদায়ন নিশ্চিত করতেন তারা। কমিশনার হাসিবের ব্যক্তিগত ভিডিও হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকেই কার্যত সিএমপির প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই চক্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রতারক জিয়ান বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে নিজেকে নারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। কখনো মডেল সানজিদা ইসলাম সায়মা, আবার কখনো জান্নাতুল মনি বা জান্নাতুল নাইমা সেজে চট্টগ্রামের শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন তিনি। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, জিয়ানের ব্যবহৃত ৫৪টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। এর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘ সময় ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে পাহাড়তলী থানার তৎকালীন ওসি বাবুল আজাদের মাধ্যমে, যিনি সায়মা নামের এক তরুণীকে কমিশনারের শ্যালিকা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর জিয়ান ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কমিশনারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথোপকথন চালিয়ে যান। কমিশনার হাসিব আজিজ বর্তমানে এপিবিএন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হানি ট্র্যাপে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছেন যে, প্রতারকরা তার কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃত মডেল সানজিদা ইসলাম সায়মা বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল হোতা জিয়ানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরাসহ সচেতন নাগরিকরা।

0%
0%
0%
0%