শিবচরে তরুণীকে হত্যার পর শিশুপুত্রকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার আসামির

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের ভেইলি ব্রিজের বাখরেরকান্দি এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে-সংলগ্ন ঝোপ থেকে শাম্পা খাতুন নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মো. ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত শাম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি শাম্পাকে হত্যার পাশাপাশি তার এক বছর বয়সী শিশুসন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তার ভাড়া বাসা থেকে নিহতের ব্যবহৃত পোড়ানো ওড়না, নাকফুল, গলার চেইন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার বাসিন্দা রতন মোল্লার ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও চোরাই গাড়ি সংক্রান্ত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, তিন বছর আগে মাদারীপুর সদরের শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে শাম্পার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে আবির নামের এক বছর বয়সী সন্তান ছিল। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ ধারণা করছে, শাম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোপে ফেলে রাখা হয়েছিল। শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ নদের একটি সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার তথ্যটি যাচাই করে বর্তমানে তার মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নৃশংস এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
