ফیسবুক পোস্টে ভয়ংকর বার্তা দিলেন বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একের পর এক গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে এই পোস্টটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর কেড়েছে। পোস্টে রায়হান দাবি করেছেন যে, তার লোকজন কারাগারে থাকলেও তিনি একা নন এবং সাজ্জাদ ভাইয়ের আরও অনেক লোকজন সক্রিয় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে রায়হান লিখেছেন, ‘আমার খেলা শেষ আহারে বেকুবের দল’। তিনি আরও দাবি করেন, বড় সাজ্জাদের ‘অটো মাল’ বা নেটওয়ার্কের সদস্যরা আগের লোকজনের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবে এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এর নতুন ‘আপডেট’ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ‘আমার মতো শত শত রায়হান সাজ্জাদ ভাইয়ের স্টোরে পড়ে আছে’—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বড় সাজ্জাদের একটি বিস্তৃত ও সক্রিয় নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে আসছেন যে, বড় সাজ্জাদের চক্রটি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত, যেখানে শীর্ষ সহযোগী গ্রেপ্তার হলে নতুন কেউ সেই স্থান দখল করে নেয়। সম্প্রতি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাহিনীর পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে যখন নানামুখী আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই রায়হানের এই হুমকি সংবলিত পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি পোস্টটিতে রাউজানের বিভিন্ন পক্ষের নাম উল্লেখ করে তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কেও নিজের কাছে তথ্য থাকার দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, একজন সন্ত্রাসীর ফেসবুক পোস্টের বক্তব্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং ডেভিড ইমন ও ধামা ইলিয়াসের মতো অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় রায়হানসহ বাকিদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো তৎপরতা চলছে। বড় সাজ্জাদের চক্রের যারা এখনো পলাতক, তাদের পরবর্তী কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।
তবে রায়হানের ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং তার দাবিগুলো নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকির ঘটনায় স্থানীয়রা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
