Advertisement

মামলা তুলে নিতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা শৈবালকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এ সাংবাদিক।

আবেদনপত্রে শৈবাল উল্লেখ করেন, বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। প্রভাবশালী মহলের হুমকির কারণে তিনি আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তার স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তানও ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পাল্টা মামলাটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই, যখন বাহুবল উপজেলা পরিষদে হামলার শিকার হন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে উপস্থিত হলে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা শৈবালের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরবর্তীতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ ও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় অভিযুক্তদের রোষানলে পড়েন তিনি। পরে ২১ জুলাই বাহুবল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রকিবসহ সাতজনকে আসামি করে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন শৈবাল। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমীন তালুকদার। তবে কয়েকজন আসামি জামিনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, বিষয়টি তাদের অবগত রয়েছে এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও ভুক্তভোগীর পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%