ঈদগাঁওয়ে একই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি লুট দেড় কোটি টাকার মালামাল

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় একই রাতে দুটি বাড়িতে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নে সশস্ত্র ডাকাতদল গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যা নিয়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য নুরুচ্ছফার বাড়িতে গভীর রাতে হানা দেয় ডাকাতরা। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় সশস্ত্র দলটি নুরুচ্ছফার স্ত্রী আমেনা বেগম ও এক শিশুকে জিম্মি করে মারধর করে। ডাকাতরা নগদ ২১ লক্ষ টাকা, ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৪টি মোবাইল সেট লুট করে মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের।
একই রাতে পোকখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পোকখালীতে মো. হোছনের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতদল ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নুর মোহাম্মদের স্ত্রীর ১৬ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ৩টি মোবাইল ও ৮০ লক্ষ টাকার একটি চেকসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। দুই ক্ষেত্রেই ডাকাতরা যাওয়ার সময় ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে।
উপজেলায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লোহার গ্রিল কেটে মোটরসাইকেল যোগে ডাকাতদলের এহেন তৎপরতায় জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম সিফাতুল মাজদার জানিয়েছেন, তিনি পৃথক দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের অবিলম্বে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
