গোসাইরহাটে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, নয়ন দাস ভর্তি হাসপাতালে

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট-এর জেলা প্রতিনিধি নয়ন দাস (২৯) সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকায় এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য নয়ন দাস ও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। এরপর তারা পাশের উত্তর মলংচড়া এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসরের কিছু ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন ওই এলাকায় থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারিরা।

প্রতিবেদনের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়ন দাস যখন শরীয়তপুর শহরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন নাগেরপাড়া বাজারে তার মোটরসাইকেল আটকে দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত সাংবাদিক নয়ন দাস জানান, “গোসাইরহাট এলাকার মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরের ছবি তুলে আনি। বিষয়টি জানতে পেরে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। একজন সাংবাদিককে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। আমি চাই এই ঘটনার দ্রুত বিচার হোক।”

বিজ্ঞাপন

গোসাইরহাটে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকরাও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা সমাজ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা সমাজের অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়, তবে তা শুধু একজনের ওপর হামলা নয়; এটি সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নয়ন দাসের কাধ, মাথা ও বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) জানিয়েছেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তবে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0%
0%
0%
0%