তিন দিন দেরিতে ভারতে বর্ষার আগমন কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে উদ্বেগের ছায়া

ভারতের চার ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বর্ষার বৃষ্টিপাত তিন দিনের বিলম্ব নিয়ে অবশেষে কেরালা উপকূলে আঘাত হেনেছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত পহেলা জুন মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও এবার তা কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত দেশটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড, যার ওপর নির্ভর করে তুলা, সয়াবিন, আখ, ধান ও ভুট্টার মতো ফসলের ফলন।
ভারতের মতো এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে এই মৌসুমি বায়ু থেকে। কৃষিকাজ ছাড়াও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ এবং দেশের বিভিন্ন জলাধার পূর্ণ করতে এই বর্ষার কোনো বিকল্প নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগরের মধ্যাঞ্চলসহ গোয়া, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ ও তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গত মাসে আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা দেশজুড়ে ফসলের উৎপাদন, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুম গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও-এর মতে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এল নিনো সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ।
এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর আগমন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা