নরসিংদীর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শেখেরচর-বাবুরহাটে ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীর দখল করে অবৈধ দোকানপাট নির্মাণের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দেশের বৃহত্তম এই পাইকারি কাপড়ের বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক অস্থায়ী ভিটি ও টিনশেড দোকানঘর। একটি প্রভাবশালী চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের কাছে এসব জায়গা বরাদ্দ দিচ্ছে, যার ফলে একদিকে যেমন নদ তার স্বাভাবিক গতিপথ ও প্রশস্ততা হারাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলমান্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এবং বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দিনের সমন্বয়ে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার নামে তিন থেকে চার লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবৈধভাবে পাকা বহুতল ভবন নির্মাণেরও মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের দখলদারিত্ব চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও, দখলদাররা তা উপড়ে ফেলে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজশে রাজনীতির ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি নদী ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। সরকার যেখানে নদী রক্ষায় কঠোর অবস্থানে, সেখানে স্থানীয় পর্যায় থেকে এ ধরনের জালিয়াতি জনমনে গভীর হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। অন্যদিকে, বণিক সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন দখলদারিত্বের দায়ভার স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে নদীর জায়গা অবৈধ জেনেই তারা দোকান নির্মাণ করছে, তবে দলীয় পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও নদী দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয় সভার মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। শেখেরচর-বাবুরহাটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা ও নদী রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।