Advertisement

সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা কারখানায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় জাহাজের ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গত হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গত ১৪ আগস্টের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটনাস্থলে পাঁচজন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

তদন্ত দলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ঘটনার সময় ইয়ার্ডের তিন নম্বর ট্যাংকের ব্যালাস্টের পানি অপসারণের কাজ চলছিল। ওই পানি থেকে বেরিয়ে আসা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সংস্পর্শেই শ্রমিকরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ দল কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনটি দাখিল করে। তবে এখনো পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্যের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিটির সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত দলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন শোয়েব আহমেদ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খানসহ সাতজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তারা জানান, জাহাজ থেকে সংগৃহীত নমুনার ল্যাব পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি ও এর তৈরির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে বাতাসে ওই গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও, ঘটনার সময় ট্যাংকের পানি থেকে মারাত্মক মাত্রায় গ্যাস নির্গত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গভীর শোকের পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তারা এ মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%