সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০ জন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫০ বছর বয়সী মো. ইদ্রিস আলী। এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গত ১৪ আগস্টের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ জনে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হয়েছে। ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রুবেল আফ্রাদ জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের বদ্ধ ট্যাংকে কাটার কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন শ্রমিকরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ চালিয়ে তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হলো। দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস কীভাবে জমল এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত। এছাড়া বদ্ধ ট্যাংকে প্রবেশের আগে গ্যাস পরীক্ষা, বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না—তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের অপ্রতুলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
একের পর এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপার্জনক্ষম স্বজনদের হারিয়ে নিহতের পরিবারগুলো এখন শোকে পাথর হয়ে আছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
