AdvertisementAdvertisement

জুলাই বিপ্লবে শহীদ কিশোর রাতুলের দুই বছরেও মেলেনি বিচার অনিশ্চয়তায় পরিবার

বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী জুনাইদ ইসলাম রাতুলের পরিবারের প্রতিটি দিন এখন গভীর শোক আর চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে। গত বছর ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার দীর্ঘ ৪৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাত্র তেরো বছর বয়সী এই কিশোরের। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কাঙ্ক্ষিত বিচারের দেখা পায়নি শোকার্ত পরিবারটি।

উপশহর পথ পাবলিক স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী রাতুল মুদি দোকানি জিয়াউর রহমান ও গৃহিণী রোকেয়া বেগমের ছোট সন্তান ছিল। পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাকে শিক্ষিত করে দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় তপ্ত বুলেটের আঘাতে। ৫ আগস্ট বিকেলে বগুড়া সদরের বড়গোলা এলাকা থেকে বের হওয়া মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে কিশোর রাতুল গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে রাতুল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে সে আজও এক অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে। শহীদ রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান আক্ষেপ করে জানান, তার সন্তান কোনো অপরাধ করেনি, কেবল দেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে সে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারের প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়ায় এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের ধারাবাহিকতার অভাব দেখে তিনি গভীর হতাশায় নিমজ্জিত।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সহায়তার আশ্বাস এলেও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রেরিত উপহার ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক অনুদান পাওয়া গেলেও, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন চরম মানসিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। জুলাই শহীদ পরিবার সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন জুবায়েল জানান, সময়ের সাথে সাথে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি মানুষের সহানুভূতি কমে আসায় তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা শহীদ রাতুলসহ জুলাই বিপ্লবে প্রাণ হারানো প্রতিটি বীরের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%