রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের ধাক্কায় বাসসহ চার যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে নিহত ২

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে রোববার রাতে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন যাত্রী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের এই রেলগেটে ঘটা এই দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্র, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিহতরা হলেন বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের বাসিন্দা মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। তারা মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। আহতদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ট্রেনের ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাস, মাহিন্দ্র ও অটোরিকশা লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণহীন বিচ্ছিন্ন ওয়াগনগুলো সজোরে সেগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে।
সংঘর্ষের ফলে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আনন্দ পরিবহনের বাসটি ছিটকে রেললাইনের পাশের খাদে পড়ে যায়। বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি এড়াতে রেলগেট পরিচালনার ত্রুটি ও ট্রেনের যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।