মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল অচল চট্টগ্রামসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি চার দিন ধরে অচল থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। টার্মিনালটিতে আকস্মিক আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।
গ্যাসের তীব্র সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি সচল করতে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে মেরামত শেষে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সংস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি।
বর্তমানে দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৩৭ শতাংশ। টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় দৈনিক মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রোবাংলা সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে।