সাঘাটার জুমারবাড়ী ওয়াপদা সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা হতে জুমারবাড়ী বাজার পর্যন্ত সংযোগকারী ওয়াপদা বাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। এতে সাঘাটা থেকে বগুড়ার মোকামতলা অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে যান চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে বড় ও মাঝারি যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বাঁধটির অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ছোট যানবাহনগুলোও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান ও অটোরিকশায় যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতের বেলা চলাচলের সময় দুর্ঘটনার হার আরও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের গোড়া কেটে গভীর করা, অপরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ এবং সংস্কার কাজে নিম্নমানের বালুর অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে রাস্তাটি টেকসই হয়নি। এছাড়া বাঁধের ওপর পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের মাটি ধসে যাচ্ছে।

সংস্কার কাজে অনিয়মের কারণে ডাকবাংলা, ঘুরিদহ, টেকনিক্যাল কলেজ এলাকা, জুটিয়ারপাড়া ও বসন্তেরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলালুর রহমান জানান, সড়ক ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে এলাকাটি পরিদর্শন ও মাপজোখ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে স্থায়ীভাবে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%