জামালগঞ্জে বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলের জমি ও সড়ক যোগাযোগ ঝুঁকিতে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওর সংলগ্ন উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে বর্তমানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে হাওরের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির ফলে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত কৃষকের আমন ফসল এবং নদী তীরবর্তী জনবসতি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এই বেড়িবাঁধটি এলজিইডির সড়ক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি পাগনার হাওরের ফসল রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৪১টি বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হলেও রহস্যজনক কারণে উজ্জ্বলপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি সংস্কারের তালিকায় রাখা হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙন দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবেশ করায় নদী তীরবর্তী মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া ভাঙনস্থলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের ব্রিজের নিচের অংশের মাটি ধসিয়ে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকির সম্মুখীন।

উজ্জ্বলপুর গ্রামের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বলেন, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও বাঁধটি মেরামতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাত্র লাখ খানেক টাকা ব্যয় করলেই এই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো, কিন্তু অবহেলার কারণে এখন কয়েকশ পরিবার তাদের কষ্টের আমন ফসল হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করায় আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, নদীর পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার ভাঙন মেরামতে বিলম্বের জন্য এলাকায় শ্রমিক সংকটকে দায়ী করেছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিল্পী রানি মোদক জানিয়েছেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙা মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্লক ও জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিয়েছেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চেয়ারম্যানকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু নির্দেশনার কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধ মেরামতে দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক নির্দেশনার পরও বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং কৃষিজমি ও সড়ক রক্ষায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও বাসিন্দারা দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%