যশোরে গৃহবধূর আত্মরক্ষার দায়ের কোপে সন্ত্রাসী নিহত

যশোর শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় বসতবাড়িতে ঢুকে চাঁদাবাজি ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টার সময় গৃহবধূর দায়ের কোপে জিতু (৩৫) নামের এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে জিতু জোরপূর্বক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে সুমন হোসেন নামের এক যুবকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিতু ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমনকে আঘাত করেন। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শুকরান বেগম (৫২) নামের ওই গৃহবধূকেও কুপিয়ে জখম করেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালানো হলে আত্মরক্ষার্থে তিনি ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে পাল্টা আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় জিতুকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত শুকরান বেগম ও তার ছেলে সুমন হোসেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য জিতুর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
