প্রয়াত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের জীবনাবসান

চট্টগ্রাম মহানগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সমাজসেবক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে চিকিৎসা ও সমাজসেবা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি মিরসরাই উপজেলার মরহুম ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেছা দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন।

১৯৬১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে চক্ষুবিদ্যায় ডিপ্লোমা এবং এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকা মূলধন নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে চক্ষু চিকিৎসার এক মানবিক যাত্রার সূচনা করেন। তাঁর হাত ধরেই ১৯৮৩ সালে পাহাড়তলীতে ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান আধুনিক চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ রোগীর অস্ত্রোপচার এবং ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ লাখ স্কুল শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, যেখান থেকে ২৬৬ জন চিকিৎসক স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।

মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে জার্মানির রাষ্ট্রপতির ‘অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের ‘লাইফ লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মানসূচক পদক উল্লেখযোগ্য। চিকিৎসা শিক্ষায় অপটোমেট্রি ও অপথালমোলজির মতো আধুনিক উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শনিবার বাদ এশা চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা এবং একই দিন বাদ জোহর মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়ায় তৃতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

০%
০%
০%
০%