ফেনী জেলার সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুটি, দাগনভূঞায় দুটি, ফুলগাজীতে একটি, পরশুরামে একটি এবং সোনাগাজী উপজেলায় একটি করে খাল রয়েছে। প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় না রাখার পাশাপাশি সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাগজে-কলমে ২ হাজার ৭৭৮ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে খননকাজ চলছে নামমাত্র কয়েকটি এক্সকাভেটর দিয়ে। প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে শ্রমিক নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হলেও বাস্তবে কাউকে কাজে নেওয়া হয়নি। অথচ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসব ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব খোলা ও ভুয়া মাস্টার রোল তৈরির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যার সঙ্গে মাস্টার রোলের স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের কোনো মিল নেই।
প্রকল্পের তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানান, সরকারি অর্থের লুটপাটের সুবিধার্থেই শ্রমিকের বদলে ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সদর উপজেলার শর্শদিতে প্রশাসনের পরিদর্শনের আগে তড়িঘড়ি করে দলীয় কর্মীদের শ্রমিক হিসেবে হাজির করার নাটকও সাজানো হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনগুরুত্বপূর্ণ এসব খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য থাকলেও দুর্নীতির কারণে সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানিয়েছেন, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে যথাযথ তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য যে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তা স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।