গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট এই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে চরাঞ্চলের কৃষি ও বসতভিটা নির্ভর মানুষের।
গত এক সপ্তাহ ধরে নদ-নদীর পানির উচ্চতায় ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিচ্ছে, যা ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর ও উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতার এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বালাসী ফেরিঘাটটিও বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কয়েকটি বসতভিটা ও অর্ধশতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সাঘাটা উপজেলায় ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্পটির ধীরগতিতে কাজের কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের জিও ব্যাগ, দুর্বল সিসি ব্লক এবং মাটিমিশ্রিত রাবিশ ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের মান ও গতি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় মুন্সিরহাট বাজার, উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষায় চারটি প্যাকেজে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত সপ্তাহে সাঘাটার গোবিন্দপুরে যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস নামলে চোখের সামনেই ব্লকগুলো নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সাঘাটার হলদিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মমিন জানান, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বন্যায় উপজেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তবে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।