ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হচ্ছে পূর্বাচল

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বুধবার পূর্বাচল প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর সড়কের ৪৪ নম্বর প্লটে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির এ কথা জানান। এই পুলিশ ক্যাম্পটি আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করবে।
পূর্বাচল উপশহরকে ঘিরে ব্যাপক পুলিশি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ও ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। মহাপরিদর্শক জানান, পূর্বাচলের নিরাপত্তা কাঠামো সুসংহত করতে ডিএমপির অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতে পূর্বাচল এলাকাকে ডিএমপির পূর্ণাঙ্গ আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক একটি পুলিশ বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্যের জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিকল্পিত এই পুলিশি অবকাঠামো গড়ে উঠলে অপরাধ দমন ও দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অঞ্চলটির টেকসই নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার পুলিশি সেবার পরিধি পূর্বাচল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, যা জননিরাপত্তা বিধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।