তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থায়ী বাঁধ ও ড্রেজিংয়ের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে সরেজমিনে কাজ শুরু করেছে সরকার।
উজানের দেশগুলোর পানি নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গজলডোবায় গেটগুলো খুলে দেওয়ায় প্রবল স্রোতে তিস্তার পাড় ভেঙে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার সুপরিকল্পিত টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে বদ্ধপরিকর।
তিস্তা প্রকল্পটিকে শুধুমাত্র লালমনিরহাট বা উত্তরবঙ্গের নয়, বরং সারা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগলেও এর সুফল পুরো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষিপ্রধান উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। কুয়েটে আয়োজিত সেমিনারের ধারাবাহিকতায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের আদলে এই বৃহৎ প্রকল্পটিকেও একনেকে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কাজের গতি আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।