প্রণোদনার তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা

কিশোরগঞ্জের নিকলী ও সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রণোদনা তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সহায়তার তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এই বিশেষ প্রণোদনা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে না পৌঁছে অসাধু চক্রের পকেটে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিকলী উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন থেকে তিন হাজার ১৮০ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় দুই হাজার ১৮০ জনের নাম অনুমোদন করা হয়। সিংপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষক রুকন আহমেদ অভিযোগ করেন, সাত লাখ টাকা লোকসান গুনেও তিনি তালিকায় স্থান পাননি, অথচ যারা চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত নন এমন অনেককে তালিকায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন খাইরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। যদিও রাজীব আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে দায় চাপিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর।
একই পরিস্থিতির শিকার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অসহায় কৃষকরা। প্রথম ধাপে ২০ হাজার ২৫০ জনের তালিকা পাঠানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান ১০ হাজার ১৫০ জন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আটগাঁও ইউনিয়নে এক নারী ইউপি সদস্যের স্বামী, শ্বশুর ও দেবরসহ একাধিক স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হবিবপুর ইউনিয়নেও অনেক ব্যবসায়ী ও অকৃষক ব্যক্তির নাম প্রণোদনার তালিকায় যুক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া বা ঢাকায় বসবাস করছেন।
ভরাম হাওরের কৃষক জয়ন্ত চন্দ্র দাস আক্ষেপ করে জানান, নিজের জমি তলিয়ে গেলেও সহায়তার তালিকায় প্রথমে নাম থাকলেও পরে তা রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের ফোন দিলেও তারা কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়রা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের অভাব এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশের কারণেই এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি জানিয়েছেন, তালিকায় কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই এবং অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ভুক্তভোগী কৃষকরা দ্রুত প্রকৃত তালিকা সংশোধন করে তাদের প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
