ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় অভিযুক্ত শিবির নেতার নাটকীয় আত্মগোপন রহস্য উন্মোচিত

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে অপহৃত হওয়ার নাটক সাজানো ছাত্রশিবির নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধারের পর তার প্রতারণার আসল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান নিজেকে অপহরণের শিকার দাবি করলেও, কুমিল্লা জেলা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মূলত বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর দায় এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে লিজা আক্তার নামক এক বিধবার সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জিসান। গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে তিনি প্রথমবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন।

ঘটনার শিকার ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেন জিসান। কিন্তু বিয়ের দায় এড়াতে জিসান নিজেই আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন এবং তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করান। অবশেষে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। তার এই নাটকীয় আত্মগোপন ও প্রতারণার খবর জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে সংঘটিত প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরেই সে আত্মগোপনে ছিল। অভিযুক্ত জিসানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারপ্রধান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার আলোকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

0%
0%
0%
0%