কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করলো বিজিবি ও এলাকাবাসী

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চক বিলগাতুয়া-প্রাগপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে ১২ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার অদূরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ সদস্যরা নারী ও শিশুসহ ১২ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত প্রাগপুর বিওপি ক্যাম্পে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিক বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের আটকে দেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বাধ্য হয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান গ্রহণ করেন।
অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো ব্যক্তিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উজির আলীর পরিবারের পাঁচজন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের তিনজন এবং খুলনার ডুমুরিয়ার আফরোজা খাতুনের পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দাবি করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রাগপুর বিওপির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
বিজিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাহিনীটি সর্বদা সজাগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে বিজিবি আপসহীন ভূমিকা পালন করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।