দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশনা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন পাস করা এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা। এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস বিসিপিএস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিতর্কিত বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিলে তারা ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন জানান, রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তারা বারবার প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ৪৮ ঘণ্টা এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়ার পরও দাবি পূরণে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েই তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%