টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ার ম্যাচে ইংলিশরা বুঝিয়ে দিয়েছে শিরোপার দৌড়ে তারা কতটা মরিয়া। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আইরিশরা শোচনীয়ভাবে হেরেছে। এখন গ্রুপ ‘বি’-এর ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে মঙ্গলবারের ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

বিজ্ঞাপন

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চার ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেওয়া আইরিশ বোলারদের জন্য এটি ছিল আশার আলো। তবে ব্রাইস বোনদের কাছে ম্যাচ হাতছাড়া করার যে ব্যর্থতা তারা দেখিয়েছে, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তা করা তাদের জন্য হবে আত্মঘাতী। যদিও ২০২৪ সালে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের সুখস্মৃতি আইরিশদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে, তবে বর্তমান ইংলিশ স্কোয়াডের সাথে ওই দলের খুব একটা মিল নেই। ইংলিশ শিবিরে বর্তমানে কেবল ইজি ওং রয়েছেন সেই সিরিজের অংশ হিসেবে।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের বাড়তি চাপ রয়েছে ইংল্যান্ডের কাঁধে। তবুও ন্যাট সিভার-ব্রান্টের মতো অলরাউন্ডারের সীমিত ব্যবহার সত্ত্বেও দলের ভারসাম্য ঈর্ষণীয়। ওপেনিং জুটি নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল, ড্যানি ওইয়াট-হজ এবং অ্যামি জোনসের ১৩৫ রানের জুটি তা মুহূর্তেই ধুয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ওইয়াট-হজের সেঞ্চুরি ইংলিশদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তরুণ বোলার টিলি করটিন-কোলম্যানকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, প্রথম ম্যাচের ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে স্বাগতিকরা।

সাউদাম্পটনের রোজ বোলে উইকেটের আচরণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও ব্যাটারদের জন্য পাওয়ার প্লে খুব একটা সহজ নয়। ২০২৫ সাল থেকে এখানে খেলা ১২টি ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি রান এসেছে সাতের সামান্য বেশি। তবে কিউই ব্যাটার ইসাবেলা গাজ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেখানো ব্যাটিং শৈলী কিছুটা আশার সঞ্চার করে। এই মাঠে পেসার ও স্পিনাররা সমানভাবে সফল হলেও পেসাররা প্রতি ১৭.৮ ডেলিভারিতে একটি করে উইকেট নিয়েছেন, যেখানে স্পিনারদের জন্য তা ছিল ২০.৮ ডেলিভারি।

বিজ্ঞাপন

আইরিশদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ গাবি লুইসের অফ ফর্ম। চোট কাটিয়ে ফেরার পর তার ব্যাট হাসছে না। এছাড়া অলরাউন্ডার অ্যালানা ডালজেলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওর্লা প্রেন্ডারগাস্টের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে দলীয় সংহতি বজায় রাখাই এখন আয়ারল্যান্ডের মূল চ্যালেঞ্জ। লরেন বেলের নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও কৌশলী বোলিংয়ের বিপক্ষে আইরিশ ব্যাটাররা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, সেটাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

উল্লেখ্য, নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের পার্লের ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনের মাঠে ড্যানি ওইয়াট-হজের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ; সেখানে ৩৬ ইনিংসে ৩০.৯৪ গড়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ১০৫২ রান। এছাড়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের পর থেকে রোজ বোলে প্রথম ব্যাট করা দল ১২টির মধ্যে সাতবারই জয় তুলে নিয়েছে।

নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে ইংলিশ পেসার লরেন বেল জানান, দলের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে শুরুর ওভারে ভালো সূচনা করা এবং ইনিংসের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাকে সেরাটা দিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়ে আইরিশ অধিনায়ক গাবি লুইস বলেন, টুর্নামেন্ট এখনো লম্বা এবং দলের সবার একত্রে লড়াই করার ওপরই তারা মনোযোগ দিচ্ছেন।

0%
0%
0%
0%