সুদানের এল ওবেইদ ঘিরে ব্যাপক গণহত্যার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

সুদানের এল-ওবেদ শহর ঘিরে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ এবং তাদের মিত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শহরটির চারপাশে আধাসামরিক বাহিনীটির শক্তি সঞ্চয়ের খবরকে ‘গণহত্যাতুল্য অপরাধ’ সংঘটনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের বিস্তার সাধারণ মানুষের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে এবং অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যে, এল-ওবেদে আরএসএফের সম্ভাব্য আক্রমণ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিস্থিতি এল-ফাশেরে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের সেই হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা ছিল জেনোসাইড বা গণহত্যার শামিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আরএসএফ ও তাদের সহযোগীদের এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল সপ্তাহান্তে জানিয়েছে, এল-ওবেদে বসবাসরত ৫ লাখ সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। গত ১০ দিনে এল-ওবেদ এবং উত্তর কর্দোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আরএসএফকে অবিলম্বে এমন সব পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে যা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে অথবা ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যুদ্ধের উভয় পক্ষকে অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ত্রাণ সহায়তার পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%