সততা ও নিষ্ঠাই জিয়াউর রহমানকে সাধারণের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে: স্পিকার

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার মুখে যখন দিশেহারা বাঙালি জাতি আত্মসমর্পণের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দেন এবং দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। শনিবার বরিশাল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ কথা জানান। তিনি বলেন, জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা লাখো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অসীম প্রেরণা জুগিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

নিজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে মেজর জিয়ার অধীনে একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসে বিদ্রোহ ঘোষণার পর দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি ওই অঞ্চলে মুক্তি বাহিনী গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে জুন মাসে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘জেড ফোর্স’-এর অধীনে তিনি বিভিন্ন রণাঙ্গনে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। স্পিকারের ভাষ্যমতে, জেড ফোর্স মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে বীরত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এবং সর্বাধিক খেতাব অর্জনকারী ব্রিগেড হিসেবে গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

সিলেট মুক্ত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ১৮টি জেলার মধ্যে সিলেট সদর ছিল একমাত্র জেলা, যা জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনী এককভাবে শত্রুমুক্ত করেছিল। কোনো বিদেশি বাহিনীর সহায়তা ছাড়াই মেজর জিয়ার নিপুণ রণকৌশলে ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে সিলেট এমসি কলেজে অবস্থিত পাক বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটিটি দখল করা সম্ভব হয়।

দেশ স্বাধীনের পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে স্পিকার বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েই জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দুবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জেনারেল এম এ জি ওসমানী ও ড. কামাল হোসেনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে তিনি বিপুল জনরায় অর্জন করেছিলেন। সততা, নিষ্ঠা এবং স্বজনপ্রীতিহীন শাসনামল ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই জিয়াউর রহমান আজও দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধায় অমলিন হয়ে আছেন।

বিজ্ঞাপন

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ অনুসরণ করেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করবে।

0%
0%
0%
0%