খাগড়াছড়ি জেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় জুলাই মাসজুড়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্যোগকবলিত জেলাগুলোতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহ থেকেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। রোববার দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক দীর্ঘ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দুর্গতদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। গৃহহীন ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মেরামতের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগে কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে জনজীবন স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। দুর্যোগের শুরু থেকেই উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণ বিতরণে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
আগে থেকে আগস্ট মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও বন্যাকবলিত মানুষের সংকট বিবেচনায় তা এগিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের মানুষ আগামী সপ্তাহ থেকেই স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার সুযোগ পাবেন। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রতিমন্ত্রী দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত ও কার্যকর ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের দাবি জানিয়েছেন।