চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা এবং তথ্য গোপনের কারণে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উদযাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দিবসটি পালনের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা সেই চিঠিতে ক্লাস্টারভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দীনকে বিদ্যালয়গুলোতে দিবসটি পালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা পৌঁছানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষা অফিস থেকে তাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাঈন উদ্দিন ও লায়ন মুস্তাফিজুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহেদা বেগম নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দেশনা না পাওয়ায় তারা দিবসটি পালন করতে পারেননি। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট দেখে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মুছাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াছিন বলেন, চব্বিশের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়। শিক্ষার্থীরা যেন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে, সেজন্য বিদ্যালয়গুলোতে এমন দিবস পালন করা জরুরি। কিন্তু শিক্ষা অফিসের গাফিলতির কারণে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক দাবি করেছেন, ক্লাস্টারভিত্তিক মেসেঞ্জার গ্রুপগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে এমন কোনো নির্দেশনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, জাতীয় দিবস পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। তিনি জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।