সাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতা সমর্থকদের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীরডাঙা গ্রামে নারীঘটিত একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে হামলার শিকার আব্দুর রকিব ঝনু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার ভোররাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ৪০ বছর বয়সী ঝনু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ওই গ্রামের ডা. আব্দুর রশিদের সন্তান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ আগস্ট রাত নয়টার দিকে। শ্রীরডাঙা মোড়ে আব্দুল মাজেদের চায়ের দোকানে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি ও তার সমর্থক জাহিদ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টুর লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আব্দুর রকিব ঝনুর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৯ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এর আগে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আশরাফুল আলম ডাবলু বাদী হয়ে জাহিদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা মূল অভিযুক্তরা আইনের আওতায় আসবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, ভিকটিমের মৃত্যুসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর চলমান হত্যাচেষ্টা মামলাটিকে ৩০২ ধারায় রূপান্তরের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি দাবি করেছেন যে, তাদের ওপর আগে হামলা করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে শাহীনুর রহমান লাল্টুসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা মামলা করেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ বিরাজ করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।
