ছাত্রদল নেতা সাইফুল হত্যা মামলায় আড়াই বছর পর গ্রেপ্তার ১

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই বছর পর জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে তাকে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত সাইফুল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের সন্তান। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন একই উপজেলার গগলপুর গ্রামের হুসন আলীর ছেলে এবং তিনি দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসের শুরুতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সাইফুল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালিয়েও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল গ্রামের নিকটবর্তী একটি হাওর থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় সাইফুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় দুর্বৃত্তরা যে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আলামত গোপন ও লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল, তা স্পষ্ট হয়। এই নৃশংস ঘটনায় তখন পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় মামলার বাদী অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রঞ্জিত চন্দ্র জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
