ভেনেজুয়েলায় ১৩১ কারাবন্দিকে মুক্তি, জাতীয় পুনর্মিলনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৩১ জন রাজনৈতিক বন্দিকে কারামুক্ত করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান কর্মসূচির আওতায় এই বন্দিদের কারাবাসের বিকল্প হিসেবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী কারাকাস থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে গুয়াতিরে অবস্থিত এল রোদেও ১ কারাগারের বাইরে স্বজনদের সাথে বন্দিদের আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুবিও জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৬ জন ভেনেজুয়েলার নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে পরিচালিত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন নারী রয়েছেন, যাদের মধ্যে মাদুরোকে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিরোধী দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার দাবি, তারা ৪৩ জনের মুক্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং ফোরো পেনালের হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৪০ জন মুক্তি পেয়েছেন। ১০ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে ৩৯১ জন রাজনৈতিক বন্দি কারাবন্দি ছিলেন বলে সংস্থাটি আগে জানিয়েছিল।
বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা বন্দিদের মুক্তিকে স্বাগত জানালেও সব রাজনৈতিক বন্দিকে বিনা শর্তে ও দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং ভেনেজুয়েলার নির্যাতন কেন্দ্রগুলো চিরতরে বন্ধ করতে হবে। মুক্তিপ্রাপ্তদের স্বজনদের জন্য এটি বিশাল স্বস্তি বয়ে আনলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা গত বুধবার সমাপ্ত হয়। উভয় পক্ষ জুনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর উদ্ধারকাজ ও দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারের লক্ষ্যে বিদেশে জমে থাকা তহবিল পুনরুদ্ধারে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ডিনোরা ফিগুয়েরা এবং জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজের নেতৃত্বে চলা এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় আরও বন্দির মুক্তির বিষয়ে চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। মাদুরোর বিতর্কিত নির্বাচনী জয়কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকটের পর, এই আলোচনা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশাবাদী দেশবাসী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
