মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার লালমাটির বিস্তৃত গড়াঞ্চলে এবার আনারসের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। অতিবৃষ্টির কারণে বাগানগুলোতে একসাথে প্রচুর আনারস পেকে যাওয়ায় বাজারে আমদানির তুলনায় চাহিদা কমে গেছে। ফলে ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম হতাশায় দিন পার করছেন স্থানীয় আনারসচাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মধুপুরে প্রায় ছয় হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৩০৭ হেক্টরে ক্যালেন্ডার, দুই হাজার ৩১৮ হেক্টরে জলডুগি এবং ১০ হেক্টরে এমডি-২ জাতের চাষাবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আড়াই লাখ টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শালবন ও আনারসের জনপদ হিসেবে খ্যাত মধুপুরে এবার মৌসুমের শুরুতে ফলন ভালো থাকলেও ভরা মৌসুমে অতিবৃষ্টি সবলল ওলটপালট করে দিয়েছে। একদিকে দ্রুত আনারস পেকে যাওয়া, অন্যদিকে বিপণনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন। মহিষমারা গ্রামের চাষি ছানোয়ার হোসেন জানান, বাগানে আনারস পেকে গেলেও পাইকার ও গ্রাহকের সংকটে তা সময়মতো বাজারজাত করা যাচ্ছে না, যার ফলে গত বছরের চেয়ে দাম বেশ কম পাচ্ছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আনারসের বাজার মূলত আবহাওয়া ও চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। জলছত্র বাজারের আড়তদার মনির হোসেন জানান, বাজারে প্রচুর পণ্য সরবরাহ থাকলেও চাহিদাও সেই অনুপাতে বাড়েনি, তাই দাম নিম্নমুখী। এছাড়া আনারসের আকার বৃদ্ধির জন্য কিছু চাষি গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করলেও কৃষি বিভাগের দাবি, তারা নিয়মিত নিরাপদ চাষাবাদ ও অনুমোদিত মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারের ওপর চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে গ্রাহক হারানোর বিষয়টি সত্য নয়, বরং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আনারস দ্রুত পেকে যাওয়াই দাম কমার মূল কারণ। তবে এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কৃষকরা।
