Advertisement

সীতাকুণ্ডে নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ ও প্রামাণ্য গবেষণার দাবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অরণ্য ও ঝরনার সৌন্দর্যে প্রায় একশ বছর আগে বিমোহিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবির সেই পদচারণার স্মৃতি আজও পাহাড়ি জনপদের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা দৃশ্যমানভাবে সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশজুড়ে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২৫টি স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, যার মধ্যে সীতাকুণ্ডের এই ঐতিহাসিক স্থানটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চন্দ্রনাথে কবির অবস্থান, চলাচলের পথ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো স্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রামাণ্য তথ্য বা দলিল নেই। ফলে কবির সীতাকুণ্ড সফরের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস উদ্ধারে সমকালীন সংবাদপত্র, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, স্মৃতিচারণমূলক লেখা ও দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্রের ভিত্তিতে গভীর গবেষণার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাহিত্যপ্রেমীরা। এছাড়া কবির সফরের সময় জোঁকের উপদ্রবে তাঁর অস্বস্তিতে পড়ার যে লোককথা প্রচলিত রয়েছে, সেটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

পর্যবেক্ষকদের মতে, চন্দ্রনাথে শুধু একটি স্মারকফলক স্থাপনই যথেষ্ট নয়, বরং সেখানে একটি সমৃদ্ধ নজরুল স্মৃতি কর্নার বা তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। কবির সীতাকুণ্ড সফরের ইতিহাস ও গবেষণালব্ধ তথ্যের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে সংযুক্ত করে একটি বিশেষ ‘নজরুল স্মৃতি পথ’ নির্মাণের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। কবির অমর সৃষ্টি ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই’ গানটির চিত্রকল্পের সঙ্গে সীতাকুণ্ডের প্রকৃতির নিবিড় মিল থাকায় এই স্থানটি সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে বিবেচিত।

পরিবেশবাদী ও সাহিত্যসংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, স্মৃতি সংরক্ষণের নামে পাহাড় কেটে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। প্রকৃতিকে সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেই কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে, কারণ বন ও ঝরনাই কবির পদচিহ্নকে ধারণ করে রেখেছে। চন্দ্রনাথের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করাই হবে বিদ্রোহী কবির স্মৃতির প্রকৃত সংরক্ষণ।

বিজ্ঞাপন

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে চন্দ্রনাথ পাহাড় কেবল একটি সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য জীবন্ত স্মৃতিভূমি হিসেবে ইতিহাসে পুনর্জন্ম লাভ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কবির স্মৃতিচারণায় নতুন দিগন্ত খুঁজে পাবে।

0%
0%
0%
0%