হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলাকে জলদস্যুতা আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানাল আবুধাবি

হরমোজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির দুটি জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আবুধাবি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জলদস্যুতা’ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটা এই হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও এ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উত্তজনা দেখা দিয়েছে।
আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি বা অ্যাডনক নিশ্চিত করেছে যে, তাদের দুটি জাহাজ জলপথ অতিক্রম করার সময় আক্রমণের শিকার হয়। তবে দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে তেহরানের পক্ষ থেকে এক চরম শত্রুতা ও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইরান এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে গত শনিবার একই কোম্পানির আরও একটি ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার জন্য সরাসরি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে দায়ী করেছিল আমিরাত। ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হরমোজ প্রণালীতে অ্যাডনকের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমোজ প্রণালী ব্যবহার করার বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মাশুল আদায়ের যে পরিকল্পনা ইরান করছে, তার অংশ হিসেবেই এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ইরান প্রণালীটির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানের যেকোনো নির্দেশ অমান্য করলে বা প্রতিপক্ষের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকলে জাহাজগুলোকে আক্রমণের হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
আমিরাতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান হরমোজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে জলদস্যুতার আশ্রয় নিচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
