স্টার শিপ ফিউশন শেফ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ আবিদ ইকবালের রন্ধন যাত্রা ও স্বপ্নকথা

রন্ধনশিল্পের জাঁকজমকপূর্ণ লড়াই ‘স্টার শিপ ফিউশন শেফ’–এর পর্দা নেমেছে গত ১৭ জুলাই। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ফিউশন কুকিং রিয়েলিটি শো–এর মঞ্চে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন প্রতিযোগীরা। চ্যানেল আই, চরকি এবং প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত আট পর্বের এই শ্বাসরুদ্ধকর আয়োজনে সেরা তিনে জায়গা করে নিয়ে রানারআপের মুকুট জিতে নিয়েছেন চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ আবিদ ইকবাল। পুরস্কার হিসেবে ১০ লাখ টাকার চেক, সম্মাননা সনদের পাশাপাশি ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে তিন মাসব্যাপী ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক এবং বর্তমানে আর্কিটেকচারাল ফার্মে লিড আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত আবিদ ইকবালের এই জয় যেন এক ভিন্নধর্মী সাফল্যের গল্প। শখের রাঁধুনি থেকে প্রতিযোগিতার মঞ্চে আসা আবিদ জানান, স্থাপত্যবিদ্যার জটিল হিসাব-নিকাশ ও নান্দনিকতার বোধ তাকে রন্ধনশিল্পের প্লেটিং ও কম্পোজিশনে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। চাটগাঁইয়া ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস বা কালা ভুনার স্বাদের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান কুজিনের ফিউশন ঘটিয়ে বিচারকদের মন জয় করেছেন তিনি। পেশাদার কিচেনের স্নায়ুচাপ সামলাতে তার আর্কিটেকচারাল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সুনির্দিষ্ট রুটম্যাপ তৈরীর কৌশল তাকে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ ছিল নতুন কিছু শেখার হাতছানি। বিশেষ করে বিচারক ও গ্রুমারদের দিকনির্দেশনা তার রান্নার ধরন ও ব্যক্তিত্বে এনেছে আমূল পরিবর্তন। আফসানা মিমির অনুপ্রেরণাদায়ক পরামর্শ এবং নাজনীন আপুর ‘নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই’ করার দর্শন আবিদকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে নিয়ে গেছে। ডেজার্ট বা পেস্ট্রির সূক্ষ্ম কারুকার্যে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রাপ্তি নিয়ে নেই কোনো আক্ষেপ। বরং এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের রন্ধনশিল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চান তিনি।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে আবিদ জানান, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজস্ব একটি ফিউশন ক্যাফে বা স্টুডিও তৈরির স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার লক্ষ্য, বাংলাদেশের স্থানীয় উপকরণ যেমন সাতকরা, চুইঝাল বা শুঁটকিকে আন্তর্জাতিক মানের ফাইন ডাইনিংয়ে রূপান্তর করা। ‘আর্কিশেফ’ নামে নিজের ক্যাটারিং সেবার মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই রান্নার জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রে ‘স্টার শিপ ফিউশন শেফ’–এর মতো আয়োজনকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এই উদীয়মান শেফ। ডিজাইন এবং ডাইনিংয়ের মেলবন্ধনে দেশীয় খাবারকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা কেবল তার নয়, দেশের রন্ধনশিল্পের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। আর্কিটেকচারের নিখুঁত পরিমাপ আর রান্নার সুস্বাদু জাদুকরী ছোঁয়ায় আবিদ ইকবাল এখন নতুন প্রজন্মের রন্ধনশিল্পীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
