আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে চার মানবাধিকার সংস্থার মামলা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন। মঙ্গলবার দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই স্বেচ্ছাচারী নীতি দেশটির নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারকে চরমভাবে খর্ব করছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে।
আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আদালতের সঙ্গে সহযোগিতাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করেছে। সংস্থাগুলোর দাবি, কোনো বাস্তবিক ভিত্তি ছাড়াই তথাকথিত ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর, বিচারক এবং তাদের সহযোগী সংস্থাসমূহের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে মূলত গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায়। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের বিষয়টিও এই আক্রোশের অন্যতম কারণ। এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজসহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের ওপর একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে অকার্যকর করার ঘোষণা দিয়ে চাপের মাত্রা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি আইসিসির আইনি কার্যক্রমকে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মূল সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনি এখতিয়ারভুক্ত হওয়ার সুযোগ কম, তবুও মার্কিন এই কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচারের ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি কেবল আইসিসিকে লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, নিষেধাজ্ঞা ভীতি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের কণ্ঠরোধ করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য এক অশনিসংকেত। গত বছর মেইন এবং নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতও ট্রাম্পের এমন আদেশকে সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে রায় দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
