AdvertisementAdvertisement

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের দীর্ঘদিনের রীতি সংকুচিত করার নতুন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার এই চ্যালেঞ্জ দাখিল করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের অনুরূপ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও, তিনি পুনরায় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ব্যাপ্তি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নতুন এই নির্বাহী আদেশের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে এমন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ‘বার্থ টুরিজম’ বা প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড এবং এশিয়ান ল ককাসের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আদেশের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, জুনে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার পর নাগরিকত্ব নিয়ে পুনরায় কোনো ধরনের সংশোধনী আনা সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের লিটিগেশন উপ-পরিচালক আমিয়া ট্রিগ এই পদক্ষেপকে আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি অবমাননা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবিধানের রক্ষাকবচকে উপেক্ষা করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আমেরিকান নাগরিকের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। যদিও ট্রাম্পের অভিবাসন বিষয়ক নীতিনির্ধারক স্টিফেন মিলার এই কঠোর অবস্থান ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় আইনি বিশেষজ্ঞরা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান।

১৮৬৮ সালে চতুর্দশ সংশোধনী গৃহীত হওয়ার পর থেকেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধানটি বলবৎ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এই সংশোধনী মূলত মুক্ত দাসদের সন্তানদের জন্য ছিল, কিন্তু রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি নাকচ করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, এই সংশোধনীর প্রতিশ্রুতি ছিল এই ভূমিতে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি স্বাধীন মানুষের জন্য, যা দেশটির বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী অটল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আইনি পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগটি সুপ্রিম কোর্টের জুনের রায়ের ওপর একটি পরীক্ষার মতো। যদিও রক্ষণশীল বিচারক ব্রেট ক্যাভানো প্রশাসনের কিছু যুক্তিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তবুও অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন প্রশাসন বারবার একই ইস্যু খুঁচিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে ভোটারদের মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

এশিয়ান ল ককাসের নির্বাহী পরিচালক আরতি কোহলি মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো আত্মবিশ্বাসী যে, সরকার একবার হেরেছে এবং এবারও তাদের এই জনবিরোধী প্রচেষ্টা আইনি লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। জনমত জরিপেও দেখা গেছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই দীর্ঘদিনের রীতির প্রতি আমেরিকান জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%